হেমন্তের অভিসার
বছর কুড়ি আগে আমার মফস্বলে চুপিসাড়ে হেমন্তের অভিসার হত। মফস্বল বলছি বটে, তবে আজ থেকে কুড়ি পঁচিশ বছর আগে সেটাকে গ্রাম বলে দিব্যি চালিয়ে দেওয়া যেত। আমার সেই ছোট্ট গাঁয়ে হেমন্ত আসত দুর্গা ঠাকুর জলে পড়ার সাথে সাথেই। শিউলির রেশ কাটতে না কাটতেই ছাতিমের সুবাসে ঢেকে দিত অন্দরমহল। খেলাঘরের নুড়ি পাথরের মাংস রান্না শেষ হবার আগেই ঝুপ করে অন্ধকার নেমে আসত, মায়ের ডাকে খেলাঘর ভেঙে ফিরে যেতাম সত্যিকারের ঘরে। বাতাসের ফিসফিসানি শুরু হত গাছেদের সাথে, কী যেন এক গোপন সন্ধি হত তাদের মাঝে। একটা দুটো করে হলুদ পাতা ঝরে পড়ত অনিচ্ছার সাথে, ভোরবেলায় তাদের মরদেহ ধুয়ে যেত শিশিরের স্পর্শে। দূর্বাও তার শরীরে ধরে রাখত ছোটো ছোটো মুক্তোর মতো শিশিরদানা। ভাইফোঁটার ভোরে পিতলের ছোট্ট রেকাবিতে জমা করতাম দূর্বার দান, শিশির ছাড়া কি চন্দন বাটা যায়! ভাইয়ের কপালে এঁকে দেওয়া হত দীর্ঘায়ুর কামনা। জানালার পাশে চুপটি করে হেমন্ত বসে থাকত, তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে আসা দিনের শেষে দেখত মা বাতি দিচ্ছে তুলসীতলায়, গলবস্ত্র হয়ে প্রণাম জানাচ্ছে মঙ্গল কামনায়। কার্তিক মাস জুড়ে দাদু রামায়ণ পড়তেন সুর করে, ছোট্ট খঞ্জনি হাতে পাশে বসে...